প্রকল্প পরিচালকের বানী

pdrpap

মো: সিরাজুল ইসলাম প্রকল্প পরিচালক (পদাবিক)

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে দারিদ্র্যতা একটি অন্যতম প্রধান বাধা। অধিক জনসংখ্যার চাপ, সম্পদের অসম বন্ঠন, চাষযোগ্য জমি হ্রাস, প্রাকৃতিক দুর্য্যেগ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের নিম্মগতি, আয় ও কর্মসংস্থানের স্বল্পতা প্রভৃতি আমাদের দারিদ্র্যতার প্রধান কারণ। উৎপাদান বৃদ্ধি এবং সম্পদের সুষম বন্ঠনের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল আর্থ-সামাজিক কাঠামো সৃষ্টির অব্যাহত প্রয়াস আমাদের দেশে দারিদ্র্যতা বিমোচনে যথেষ্ট অবদান রাখতে সক্ষম। স্বাধীনতা পরবর্তী সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা উলেস্নখিত লক্ষ্যার্জনে প্রণীত এবং বাসত্মবায়িত হয়ে আসছে। দারিদ্র্য বিমোচনকে সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অগ্রাধিকার খাত হিসাবে চিহ্নিত করেছে এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এ লক্ষে্য অব্যাহত পূর্ববর্তী পদক্ষেপের সংগে একটি নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে।

বাংলাদেশ পলস্নী উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাসত্মবায়নাধীন পলস্নী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচী(পদাবিক) দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার বাসত্মবায়নে একটি ব্যতিক্রম ধর্মী সফল প্রয়াস। নববই দশকের পূর্বে যেখানে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা কথা চিমত্মাই করা যেতনা। সেখানে সম্পূর্ণ সরকারী অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় এজাতীয় দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প বাসত্মবায়ন একটি বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। এ প্রকল্পের অর্থায়ন, প্রকল্প প্রণয়ন, বাসত্মবায়ন, তদারকী, নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যায়ন একামত্মভাবেই দেশীয় প্রযুক্তি ও বিআরডিবি’র কর্মকর্তা দ্বারা প্রণীত ও বাসত্মবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পে কোন রকম পরার্মশক ও বৈদেশিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিধান রাখা হয়নি।

জুলাই’১৯৯৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাসত্মবায়িত পলস্নী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচী(পদাবিক) বর্তমানে দেশের ২২টি জেলার ১২৩টি উপজেলায় পলস্নী এলাকার বিত্তহীন সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের প্রাক-সমবায়/অনানুষ্ঠানিক গ্রম্নপভূক্ত করে গ্রামভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো সৃষ্টি এবং সৃষ্ট সংগঠনের মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষতা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান, মূলধন গঠন, ঋণ বিতরণ এবং উৎপাদনমূখী আয়বর্ধক কার্যক্রমে আত্ম-কর্মসংস্থানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যমত্ম এ প্রকল্পের আওতায় ১০,৯০,১৮২জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান, ৫,৩৯,৮২৮জন উপকারভোগী ঋণ গ্রহণ করে বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছেন এবং তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ৯১.০০ কোটি টাকা। মাঠ পর্যায়ে সদস্যদের মাঝে ১৯৯৫৫০.৬৭ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং আদায় হয়েছে ১৮২৪৭৯.০৬ লক্ষ টাকা এবং আদায়ের হার ৯৮%। গড়ে প্রতিবছর প্রায় ১৫০.০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ ও আদায় করে থাকে।

পদাবিক একটি সফল কর্মসূচী। জুন’২০০৫ সালে(পিপি মেয়াদ অনুযায়ী) প্রকল্পটি সমাপ্ত হলেও জুলাই’২০০৫ সাল থেকে একনেক সিদ্ধামত্ম অনুযায়ী বিআরডিবি’র ৪১তম বোর্ড প্রকল্পটির যাবতীয় কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় অব্যাহত রাখার নির্দেশনার প্রেক্ষেতে বিআরডিবি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং পদাবিকের নিজস্ব আয় দিয়ে এখনো চলমান রয়েছে। যদিও ২০০৫ সালের পর কার্যক্রম পরিচালনার বিষয় কোন সুনিদিষ্ট নীতিমালা নেই এরপরও ১০৭৫ জনবল এবং প্রায় ১৯৬.০০ কোটি টাকা ঋণ তহবিল নিয়ে কর্মসূচী বিআরডিবির অন্যান্য প্রকল্পের ন্যায় সরকারের জিডিপি’তে উলেস্নখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।